হজ্বের মূল স্প্রিরিট হলো বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য


পবিত্র মক্কা নগরীর বিবরণ, ফজিলত বর্ণনা করা এই সংক্ষিপ্ত লেখনীতে সম্ভব নয়। দুনিয়ার ইতিহাসে সর্বপ্রথম স্থাপনা পবিত্র মক্কা শরীফেই। আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘নিশ্চয় মানবমন্ডলীর হেদায়াতের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মিত হয়েছে তা পবিত্র বরকতময় মক্কাশরীফে অবস্থিত’ (সুরা আলে ইমরান ঃ ৯৬)।`

দুনিয়ার সকল মুসলিমের অন্তর পবিত্র মক্কার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। হযরত ইবরাহীম (আ.) এর দোয়া যথার্থই ‘হে আল্লাহ আপনি জনগণের আত্মাকে মক্কা শরীফের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন’ (সুরা ইবরাহীম ঃ ৩৭)।`

হাদিস শরীফে এসেছে রাসুল (সা.) হাযওয়ারা নামক বাজারে বলেছিলেন, ‘হে মক্কা আল্লাহর শপথ, তুমি আল্লাহর উত্তম যমীন এবং আল্লাহর প্রিয় শহর। যদি তোমার কওম আমাকে তোমার কাছ থেকে বিতাড়িত না করত তাহলে আমি কখনও অন্যত্র বের হতাম না’ (তিরমিযি ১২-৩৩)।`

সুরা মায়েদার ৯৭ নং আয়াতে বর্ণিত ‘আল্লাহ কাবা শরীফকে সম্মানিত ঘর এবং মানুষকে টিকে থাকার কারণ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।’

পবিত্র কাবা ঘরে এক রাকাত নামাজ অন্য স্থানে এক লক্ষ রাকাত নামাজের সমান। মক্কা শরীফের মর্যাদা এত বেশী যে সেখানে কোন গাছপালা কাটা, পশু-পাখি শিকার করা, ঝগড়া বিবাদ সবই নিষিদ্ধ। এভাবেই হজ্বের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হজ্ব যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন যত বৃদ্ধি পাচ্ছে দুনিয়ায় হজ্ব সংক্রান্ত ব্যবসা বাণিজ্য এবং আয় রোজগারের খাতও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বললেন, কি ব্যাপার এবারও কি হজ্বে যাচ্ছেন? না, যাচ্ছি না। কথাগুলো বলছিলাম হজ্ব কাফেলা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান-এর সত্বাধিকারীর সাথে। আমি আমার ফরজ হজ্ব তার কাফেলায় সঙ্গী হয়েছিলাম। আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীও ছিলেন। যেসব ওয়াদা করে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন তার অধিকাংশই তিনি পালন করেছেন। বাকি যা পালন করতে পারেননি তা করার চেষ্টা করেছেন। আর মক্কা শরীফ থেকে আমাদের বিদায় দেয়ার আগে তিনি তার ত্র“টি বিচ্যুতির জন্য আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

হজ্ব ব্রত পালন করার জন্য আমাদের মক্কা শরীফে প্রায় দেড় মাস থাকতে হয়েছিল। এর ফলে অনেকের সাথেই আলাপ আলোচনা হয়েছে। হাজী সাহেবদের থাকা, খাওয়া ও জামাতে নামাজ পড়া নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের কেউ কেউ হাব অফিসে গিয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তার অফিসিয়াল প্যাডে একটি অফার লেটার হাজী সাহেবকে দিয়ে থাকেন। তাতে প্রতিটি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ ও তার খরচ উল্লেখ রয়েছে। ফলে সেসব দেশের হাজি সাহেবগণের অভিযোগ করতে হয়নি।

পৃথিবীর যত মুসলিম সবাইকে একত্রিত অবস্থায় থেকে একই নিয়মে হজ্বব্রত পালনের যে রীতি রয়েছে তাতে প্রমাণিত হয় যে, বিশ্ব মুসলিমে কোন অনৈক্য নেই। নেই কোন দ্বিমতের সুযোগ। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক...।` আমি হাজির হে আল্লাহ আমি হাজির।

সম্পাদক